জাপানি কোম্পানিগুলোর মুনাফায় কর্মীদের প্রাপ্ত হিস্যা ৫১ বছরের সর্বনিম্নে

জাপানের করপোরেট কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু মুনাফার তুলনায় কোম্পানির আয়ে শ্রমিকদের প্রাপ্ত হিস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জাপানের করপোরেট কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু মুনাফার তুলনায় কোম্পানির আয়ে শ্রমিকদের প্রাপ্ত হিস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নিক্কেই এশিয়ার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাপানি কোম্পানিগুলোর মুনাফার যে অংশ কর্মীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় হয়, তার পরিমাণ ২০২৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যা কিনা ১৯৭৩ সালের পর সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে একই সময় জাপানি করপোরেট খাতে মোট সংরক্ষিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৩৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৪ দশমিক ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। সংরক্ষিত মুনাফার এ পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি এবং এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। সাধারণত বেতন, মোট আয় থেকে উৎপাদন খরচ, সুদ, কর ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পরিশোধ করে সংরক্ষিত মুনাফা হিসাব করা হয়।

মুনাফায় কর্মীর হিস্যা বলতে বোঝানো হয়, পণ্য বাবদ তৈরি অতিরিক্ত মূল্য বা অ্যাডেড ভ্যালু থেকে বেতন, বোনাস, পারিশ্রমিক ইত্যাদি আকারে কতটুকু অংশ কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করছে কোম্পানি।

২০২৪ অর্থবছরে মুনাফায় কর্মীর গড় হিস্যা ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ বলা হলেও বড় বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটি আরো কম। যেসব জাপানি প্রতিষ্ঠানের মূলধন ১০০ কোটি ইয়েন বা তার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে কর্মীর অংশ মাত্র ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এটি ১ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। মূলধন ১০-১০০ কোটি ইয়েন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ হার ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

তবে অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো যাদের মূলধন ১-১০ কোটি ইয়েন তাদের শ্রমিকদের প্রাপ্ত অংশ ৭০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী সংকটে ভুগছে। এর ফলে তাদের মুনাফার তুলনায় বেশি হারে শ্রম ব্যয় বাড়ছে।

শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি বাড়ার বিষয়ে গত বসন্তে আলোচনা তোলে জাপানি শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠন রেঙ্গো। দরকষাকষি শেষে তারা গড়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ মজুরি বাড়ানোর দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ। গত বছরও দেশটিতে মজুরি ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবু মজুরি বৃদ্ধির এ হার মোট মুনাফায় শ্রমিকদের প্রাপ্ত অংশ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে মত বিশ্লেষকদের।

তারা বলছেন, জাপানি কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণও কর্মী হিস্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। এতে শ্রমিকদের মুনাফায় অংশ পাওয়ার হার দীর্ঘমেয়াদে ও কাঠামোগতভাবে কমছে। ২০২৪ অর্থবছরে বিদেশী শাখা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশসহ বিদেশে বিনিয়োগ থেকে জাপানি করপোরেটদের অর্জিত আয় ২৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন উদ্বৃত্ত হয়েছে। এ আয় জাপানি কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তাই কোম্পানির মোট মুনাফায় যুক্ত হলেও জাপানি কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধিতে এর প্রতিফলন নেই।

এদিকে কোম্পানিগুলোর নগদপ্রবাহ ও ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণও এখন রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি রয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরের শেষে এ পরিমাণ ছিল ২৬৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন, যা ২০২৩ অর্থবছরের ২৭২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের রেকর্ডের কাছাকাছি।

জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী লবি সংস্থা কেইদানরেন জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষিত মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে এবং টেকসই ও স্থিতিশীল পরিচালনা নিশ্চিত করে। তবে কেইদানরেন এটাও স্বীকার করেছে, কোম্পানির প্রতি সমাজিক কিছু প্রত্যাশা রয়েছে। সাধারণত ভাবা হয়ে থাকে, তারা যেন কাঠামোগতভাবে কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

আরও